ঘুমানোর পূর্বের সুরক্ষা ও আয়াতুল কুরসী
প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য
ঘুমানোর পূর্বে আয়াতুল কুরসী পাঠ করলে আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে একজন সংরক্ষক ফেরেশতা নিযুক্ত করা হয় এবং ভোর পর্যন্ত কোনো শয়তান তার কাছে আসতে পারে না (সহীহ বুখারী ৫০১৭)। এছাড়াও ৩ কুল পড়ে দুহাতে ফুঁ দিয়ে শরীরে হাত বুলানোর সুন্নাহ আমল দুঃস্বপ্ন ও অনিষ্ট থেকে রক্ষা করে।
📖আমল ও তিলাওয়াতযোগ্য আয়াত/হাদীস
4 টি আয়াত / হাদীসআল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যূম। লা তা'খুযুহু সিনাতুঁও ওয়ালা নাওম। লাহু মা ফিস-সামাওয়াতি ওয়া মা ফিল আরদ্। মান যাল্লাযী ইয়াশফা'উ 'ইনদাহূ ইল্লা বি-ইযনিহ। ইয়া'লামু মা বাইনা আইদীহিম ওয়া মা খালফাহুম, ওয়ালা ইউহীতূনা বিশাইইম মিন 'ইলমিহী ইল্লা বিমা শা-আ। ওয়াসি'আ কুরসিইয়্যুহুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্, ওয়ালা ইয়াউদুহু হিফযুহুমা, ওয়া হুওয়াল 'আলিয়্যুল 'আজীম।
আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছে এমন, যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে সুপারিশ করবে? তাদের সম্মুখে ও পেছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুকেই তারা আয়ত্ত করতে পারে না কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর কুরসী আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টন করে আছে। আর সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ তাঁর জন্য কোনো কঠিন কাজ নয়। তিনিই সর্বোচ্চ, সর্বাপেক্ষা মহান।
উৎস: মুহিউদ্দীন খান
কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ। আল্লাহুস সামাদ। লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ। ওয়া লাম ইয়াকুল লাহু কুফুওয়ান আহাদ।
বলুন, তিনিই আল্লাহ, এক-অদ্বিতীয়। আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও কেউ জন্ম দেয়নি। আর তাঁর সমকক্ষ কেউই নেই।
উৎস: মুহিউদ্দীন খান
কুল আ'উযু বিরাব্বিল ফালাক্ব। মিন শাররি মা খালাক্ব। ওয়া মিন শাররি গাসিক্বিন ইযা ওয়াক্বাব। ওয়া মিন শাররিন নাফ্ফা-সা-তি ফিল 'উক্বাফ। ওয়া মিন শাররি হাসিদিন ইযা হাসাদ।
বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি উষার প্রতিপালকের কাছে—তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট থেকে, অন্ধকার রাতের অনিষ্ট থেকে যখন তা সমাগত হয়, গ্রন্থিতে ফুঁৎকার দানকারী যাদুকারিনীদের অনিষ্ট থেকে, এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।
উৎস: মুহিউদ্দীন খান
কুল আ'উযু বিরাব্বিন-না-স। মালিকিন-না-স। ইলা-হিন-না-স। মিন শাররিল ওয়াসওয়াসিল খান্নাস। আল্লাযী ইউওয়াসউইসু ফী সুদূরিন-না-স। মিনাল জিন্নাতি ওয়ান-না-স।
বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি মানুষের প্রতিপালকের কাছে, মানুষের অধিপতির কাছে, মানুষের উপাস্যের কাছে—আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট থেকে, যে মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়—জিনদের মধ্য থেকে এবং মানুষের মধ্য থেকে।
উৎস: মুহিউদ্দীন খান
🌿ব্যবহার ও আমলের পদ্ধতি (সুন্নাহ অনুযায়ী)
বিছানায় শোয়ার পূর্বে আয়াতুল কুরসী পাঠ করুন। এরপর উভয় হাতের তালু একত্র করে সূরা ইখলাস, ফালাক্ব ও নাস পাঠ করে হালকা ফুঁ দিন। তারপর মাথা ও মুখমণ্ডল থেকে শুরু করে যতদূর সম্ভব সারা শরীরে হাত বুলিয়ে নিন। এটি ৩ বার করুন।
জরুরি সতর্কবার্তা ও নির্দেশনা
রুকিয়া আল্লাহর নিকট আশ্রয় ও শেফা প্রার্থনার একটি শরীয়াহসম্মত মাধ্যম; এটি ডাক্তারি চিকিৎসা বা ঔষধের বিকল্প নয়। অসুস্থতায় অবশ্যই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। কখনোই কোনো প্রকার তাবিজ ব্যবহার করবেন না এবং গণক, যাদুকর বা ভণ্ড কবিরাজের কাছে যাবেন না।
সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়সমূহ
সকাল-সন্ধ্যার নির্ভরযোগ্য সুরক্ষা আমল
সকাল ও সন্ধ্যায় রাসুলুল্লাহ ﷺ এর শেখানো মাসনূন দুআ পাঠ করা মুমিনের সবচেয়ে শক্তিশালী বর্ম। নিয়মিত এই আমল করলে সকল প্রকার যাদু, বদনজর, অনিষ্ট এবং বিষাক্ত প্রাণীর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আল্লাহ তা'আলা হেফাজত করেন।
সন্তানদের সুরক্ষায় রাসুলুল্লাহ ﷺ এর দুআ
ছোট শিশুদের ওপর শয়তানের অনিষ্ট এবং মানুষের বদনজর লাগার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁর দৌহিত্র হাসান ও হুসাইন (রা.)-এর মাথায় হাত রেখে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। কোনো সুতা বা তাবিজ না ঝুলিয়ে এই সুন্নাহ বাক্য দ্বারা সন্তানদের জন্য দুআ করা উচিত।