২. দৈনন্দিন সুরক্ষা ও মাসনূন আমল
11টি বিষয়সকাল-সন্ধ্যা, ঘুমের পূর্বে, ঘরে প্রবেশের সময় এবং সন্তানদের জন্য রাসুলুল্লাহ ﷺ এর শেখানো নির্ভরযোগ্য সুরক্ষা দুআ।
সকাল-সন্ধ্যার নির্ভরযোগ্য সুরক্ষা আমল
সকাল ও সন্ধ্যায় রাসুলুল্লাহ ﷺ এর শেখানো মাসনূন দুআ পাঠ করা মুমিনের সবচেয়ে শক্তিশালী বর্ম। নিয়মিত এই আমল করলে সকল প্রকার যাদু, বদনজর, অনিষ্ট এবং বিষাক্ত প্রাণীর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আল্লাহ তা'আলা হেফাজত করেন।
ঘুমানোর পূর্বের সুরক্ষা ও আয়াতুল কুরসী
ঘুমানোর পূর্বে আয়াতুল কুরসী পাঠ করলে আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে একজন সংরক্ষক ফেরেশতা নিযুক্ত করা হয় এবং ভোর পর্যন্ত কোনো শয়তান তার কাছে আসতে পারে না (সহীহ বুখারী ৫০১৭)। এছাড়াও ৩ কুল পড়ে দুহাতে ফুঁ দিয়ে শরীরে হাত বুলানোর সুন্নাহ আমল দুঃস্বপ্ন ও অনিষ্ট থেকে রক্ষা করে।
সন্তানদের সুরক্ষায় রাসুলুল্লাহ ﷺ এর দুআ
ছোট শিশুদের ওপর শয়তানের অনিষ্ট এবং মানুষের বদনজর লাগার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁর দৌহিত্র হাসান ও হুসাইন (রা.)-এর মাথায় হাত রেখে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। কোনো সুতা বা তাবিজ না ঝুলিয়ে এই সুন্নাহ বাক্য দ্বারা সন্তানদের জন্য দুআ করা উচিত।
নতুন স্থানে অবতরণ ও সফরের সময় আশ্রয়
অপরিচিত কোনো বাড়ি, হোটেল বা নতুন স্থানে অবস্থান করার সময় অনেক ক্ষেত্রে অপশক্তি বা বিষাক্ত প্রাণীর উপদ্রব থাকতে পারে। রাসুলুল্লাহ ﷺ শিখিয়েছেন সেখানে পৌঁছামাত্র এই সহজ দুআটি পাঠ করলে সেই স্থান ত্যাগ করা পর্যন্ত কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারবে না।
দাজ্জাল ও যুগের ভয়াবহ ফিতনা থেকে নিরাপত্তা (সূরা আল-কাহাফ)
মানবজাতির ইতিহাসের সর্বাপেক্ষা ভয়ানক পরীক্ষা হলো দাজ্জালের ফিতনা। রাসুলুল্লাহ ﷺ উম্মতকে এই ফিতনা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সূরা আল-কাহাফের প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করার ও আমল করার নির্দেশ দিয়েছেন।
পায়খানায় প্রবেশ ও বের হওয়ার মাসনূন দুআ
পায়খানা/শৌচাগারে প্রবেশকালে বামপা আগে দিয়ে ঢুকতে হয় এবং শয়তান ও অপবিত্র জিনদের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাইতে হয়। রাসুলুল্লাহ ﷺ প্রতিবার পায়খানায় প্রবেশের পূর্বে বিসমিল্লাহ বলে এবং একটি নির্দিষ্ট দুআ পাঠ করতেন (সহীহ বুখারী ১৪২, সহীহ মুসলিম ৩৭৫)। এটি দৈনন্দিন সুরক্ষার একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ।
সালাতে তাশাহুদে চারটি বিষয় থেকে আশ্রয় প্রার্থনা
রাসুলুল্লাহ ﷺ নির্দেশ দিয়েছেন যে প্রতিটি সালাতে তাশাহুদ পাঠের পর সালাম ফেরানোর আগে চারটি মারাত্মক বিষয় থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাইতে হবে: জাহান্নামের আযাব, কবরের আযাব, জীবন ও মৃত্যুর ফেতনা এবং মাসীহ দাজ্জালের ফেতনার অনিষ্ট থেকে (সহীহ মুসলিম ৫৮৮)। এটি দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের মাধ্যমে মুমিনের সবচেয়ে শক্তিশালী নিয়মিত সুরক্ষার আমল।
মেঘের গর্জন ও বজ্রপাতের সময় পঠিত মাসনূন দুআ
বজ্রপাত ও মেঘের গর্জন আল্লাহর অসীম কুদরত ও ক্ষমতার নিদর্শন। সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রা.) মেঘের গর্জন শুনলে কথাবার্তা বন্ধ করে দিতেন এবং কুরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে মহান আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করতেন (মুয়াত্তা মালিক ১৮০১, আল-আদাবুল মুফরাদ ৭২৩, সহীহ সনদ)। এটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বজ্রপাতের সময় আল্লাহর আশ্রয় লাভের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাসনূন আমল।
আযানের উত্তর ও আযান পরবর্তী মাসনূন দুআ (শয়তান বিতাড়ন)
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: 'যখন সালাতের জন্য আযান দেওয়া হয়, তখন শয়তান সজোরে বায়ু ত্যাগ করতে করতে এত দূরে পালিয়ে যায় যেন আযানের শব্দ না শুনতে পায়' (সহীহ বুখারী ৬০৮, মুসলিম ৩৮৯)। আযানের সুরক্ষামূলক বাণী শুনে মুয়াযযিনের প্রতিটি বাক্যের উত্তর দেওয়া এবং আযান শেষে রাসুলুল্লাহ ﷺ এর জন্য ওসীলার দুআ পাঠ করা সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ আমল (সহীহ বুখারী ৬১৪)।
ঘর ও পরিবারের সুরক্ষা (সূরা আল-বাকারাহ)
ঘরকে শয়তান ও দুষ্ট জ্বিনের অনিষ্ট থেকে সুরক্ষার প্রধান সুন্নাহ হলো ঘরে নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করা এবং বিশেষত সূরা আল-বাকারাহ পাঠ করা। রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন যে ঘরে সূরা আল-বাকারাহ তিলাওয়াত করা হয় সেখান থেকে শয়তান পলায়ন করে।
ক্রোধ ও শয়তানের কুমন্ত্রণা দূর করার আমল
অতিরিক্ত রাগ বা অন্তরে হঠাৎ অসৎ চিন্তা ও কুমন্ত্রণা শয়তানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনা। রাসুলুল্লাহ ﷺ রাগান্বিত ব্যক্তিকে বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছেন।
জরুরি সতর্কবার্তা ও নির্দেশনা
রুকিয়া আল্লাহর নিকট আশ্রয় ও শেফা প্রার্থনার একটি শরীয়াহসম্মত মাধ্যম; এটি ডাক্তারি চিকিৎসা বা ঔষধের বিকল্প নয়। অসুস্থতায় অবশ্যই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। কখনোই কোনো প্রকার তাবিজ ব্যবহার করবেন না এবং গণক, যাদুকর বা ভণ্ড কবিরাজের কাছে যাবেন না।