পায়খানায় প্রবেশ ও বের হওয়ার মাসনূন দুআ
প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য
পায়খানা/শৌচাগারে প্রবেশকালে বামপা আগে দিয়ে ঢুকতে হয় এবং শয়তান ও অপবিত্র জিনদের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাইতে হয়। রাসুলুল্লাহ ﷺ প্রতিবার পায়খানায় প্রবেশের পূর্বে বিসমিল্লাহ বলে এবং একটি নির্দিষ্ট দুআ পাঠ করতেন (সহীহ বুখারী ১৪২, সহীহ মুসলিম ৩৭৫)। এটি দৈনন্দিন সুরক্ষার একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ।
📖আমল ও তিলাওয়াতযোগ্য আয়াত/হাদীস
1 টি আয়াত / হাদীসআল্লা-হুম্মা ইন্নী আ'ঊযু বিকা মিনাল খুবুসি ওয়াল খাবা-ইস।
রাসুলুল্লাহ ﷺ পায়খানায় প্রবেশকালে বলতেন: 'আল্লাহুম্মা ইন্নী আ'ঊযু বিকা মিনাল খুবুসি ওয়াল খাবা-ইস' — 'হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই পুরুষ ও নারী শয়তান (অপবিত্র জিনদের অনিষ্ট) থেকে।' (সহীহ বুখারী ১৪২, সহীহ মুসলিম ৩৭৫)
উৎস: সহীহ বুখারী
🌿ব্যবহার ও আমলের পদ্ধতি (সুন্নাহ অনুযায়ী)
শৌচাগারে ঢোকার আগে 'বিসমিল্লাহ' বলুন, তারপর পাঠ করুন: 'আল্লাহুম্মা ইন্নী আ'ঊযু বিকা মিনাল খুবুসি ওয়াল খাবা-ইস'। বাম পা আগে দিয়ে প্রবেশ করুন। বের হওয়ার সময় ডান পা আগে দিয়ে বের হয়ে 'গুফরা-নাক' বলুন।
জরুরি সতর্কবার্তা ও নির্দেশনা
রুকিয়া আল্লাহর নিকট আশ্রয় ও শেফা প্রার্থনার একটি শরীয়াহসম্মত মাধ্যম; এটি ডাক্তারি চিকিৎসা বা ঔষধের বিকল্প নয়। অসুস্থতায় অবশ্যই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। কখনোই কোনো প্রকার তাবিজ ব্যবহার করবেন না এবং গণক, যাদুকর বা ভণ্ড কবিরাজের কাছে যাবেন না।
সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়সমূহ
সকাল-সন্ধ্যার নির্ভরযোগ্য সুরক্ষা আমল
সকাল ও সন্ধ্যায় রাসুলুল্লাহ ﷺ এর শেখানো মাসনূন দুআ পাঠ করা মুমিনের সবচেয়ে শক্তিশালী বর্ম। নিয়মিত এই আমল করলে সকল প্রকার যাদু, বদনজর, অনিষ্ট এবং বিষাক্ত প্রাণীর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আল্লাহ তা'আলা হেফাজত করেন।
ঘুমানোর পূর্বের সুরক্ষা ও আয়াতুল কুরসী
ঘুমানোর পূর্বে আয়াতুল কুরসী পাঠ করলে আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে একজন সংরক্ষক ফেরেশতা নিযুক্ত করা হয় এবং ভোর পর্যন্ত কোনো শয়তান তার কাছে আসতে পারে না (সহীহ বুখারী ৫০১৭)। এছাড়াও ৩ কুল পড়ে দুহাতে ফুঁ দিয়ে শরীরে হাত বুলানোর সুন্নাহ আমল দুঃস্বপ্ন ও অনিষ্ট থেকে রক্ষা করে।