বদনজর দূরীকরণে ওযু ও গোসলের সুন্নাত পদ্ধতি
প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: 'বদনজর সত্য। তাকদীরকে যদি কোনো কিছু অতিক্রম করতে পারত, তবে তা বদনজরই হতো। আর যখন তোমাদের (বদনজরের চিকিৎসার জন্য) গোসল বা ওযু করতে বলা হয়, তখন তোমরা গোসল করে দাও।' (সহীহ মুসলিম ২১৮৮)। কারো নজর লেগেছে বলে জানা গেলে, নজরদানকারী ব্যক্তিকে ওযু করিয়ে সেই পানি আক্রান্ত ব্যক্তির গায়ে ঢেলে দেওয়ার বিধান সহীহ হাদীস দ্বারা সরাসরি প্রমাণিত রুকিয়া ও শেফা।
📖আমল ও তিলাওয়াতযোগ্য আয়াত/হাদীস
3 টি আয়াত / হাদীসআল-'আইনু হাক্কুওঁ ওয়া লাও কানা শাইয়ুন সাবাকাল কাদারা সাবাকাতহুল 'আইনু, ওয়া ইযাস-তুগসিলতুম ফাগসিলূ।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: 'বদনজর সত্য। তকদিরকে অতিক্রম করার মতো যদি কিছু থাকত, তবে বদনজরই তাকে অতিক্রম করত। আর যখন তোমাদের (বদনজরের চিকিৎসার জন্য) গোসল করতে বলা হয়, তখন তোমরা গোসল করে দাও।' (সহীহ মুসলিম ২১ba)
উৎস: সহীহ মুসলিম
কুল আ'উযু বিরাব্বিল ফালাক্ব। মিন শাররি মা খালাক্ব। ওয়া মিন শাররি গাসিক্বিন ইযা ওয়াক্বাব। ওয়া মিন শাররিন নাফ্ফা-সা-তি ফিল 'উক্বাফ। ওয়া মিন শাররি হাসিদিন ইযা হাসাদ।
বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি উষার প্রতিপালকের কাছে—তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট থেকে, অন্ধকার রাতের অনিষ্ট থেকে যখন তা সমাগত হয়, গ্রন্থিতে ফুঁৎকার দানকারী যাদুকারিনীদের অনিষ্ট থেকে, এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।
উৎস: মুহিউদ্দীন খান
কুল আ'উযু বিরাব্বিন-না-স। মালিকিন-না-স। ইলা-হিন-না-স। মিন শাররিল ওয়াসওয়াসিল খান্নাস। আল্লাযী ইউওয়াসউইসু ফী সুদূরিন-না-স। মিনাল জিন্নাতি ওয়ান-না-স।
বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি মানুষের প্রতিপালকের কাছে, মানুষের অধিপতির কাছে, মানুষের উপাস্যের কাছে—আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট থেকে, যে মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়—জিনদের মধ্য থেকে এবং মানুষের মধ্য থেকে।
উৎস: মুহিউদ্দীন খান
🌿ব্যবহার ও আমলের পদ্ধতি (সুন্নাহ অনুযায়ী)
যার নজর লেগেছে বলে জানা যায় বা প্রবল ধারণা হয়, তাকে সুন্দরভাবে ওযু করতে অনুরোধ করা সুন্নাত। তিনি একটি পাত্রে মুখ, হাত, কনুই, হাঁটু ও নিম্নাংশের ভেতরভাগ ধৌত করবেন। এরপর সেই পানি আক্রান্ত ব্যক্তির পেছনে মাথার ওপর দিয়ে একবারে ঢেলে দেওয়া হবে (মুয়াত্তা মালিক ১৭১৪, সহীহ)। এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তি সূরা ফাতিহা, সূরা ফালাক্ব ও নাস পাঠ করে নিজের গায়ে ফুঁ দেবেন। কোনো অবস্থাতেই তাবীজ-কবজ বা কুসংস্কারের আশ্রয় নেওয়া যাবে না।
জরুরি সতর্কবার্তা ও নির্দেশনা
রুকিয়া আল্লাহর নিকট আশ্রয় ও শেফা প্রার্থনার একটি শরীয়াহসম্মত মাধ্যম; এটি ডাক্তারি চিকিৎসা বা ঔষধের বিকল্প নয়। অসুস্থতায় অবশ্যই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। কখনোই কোনো প্রকার তাবিজ ব্যবহার করবেন না এবং গণক, যাদুকর বা ভণ্ড কবিরাজের কাছে যাবেন না।
সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়সমূহ
বদনজর (আইন) ও নজর লাগার সহীহ রুকিয়া
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: 'বদনজর সত্য। তাকদীরকে যদি কোনো কিছু অতিক্রম করতে পারত, তবে তা বদনজরই হতো' (সহীহ মুসলিম ২১৮৮)। মানুষের প্রশংসনীয় অবস্থা বা সুন্দর কিছুর ওপর হিংসা বা বিস্ময় প্রকাশ পেলে বদনজর লাগতে পারে। জিবরীল (আ.) স্বয়ং রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে বদনজরের জন্য রুকিয়া করেছিলেন।
হিংসা (হাসাদ) ও বিদ্বেষ থেকে সুরক্ষার কুরআনি আমল
হিংসা এমন এক মারাত্মক আত্মিক ব্যাধি যা অন্যের নেয়ামত ধ্বংসের কামনা করে। মহান আল্লাহ সূরা আল-ফালাক্বে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন হিংসুকের অনিষ্ট থেকে তাঁর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতে: 'এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে' (সূরা ফালাক্ব: ৫)। কোরআনের এই আয়াতসমূহ হিংসার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষার সাধারণ ও অত্যন্ত শক্তিশালী শিফা।