৩. বিভিন্ন বিপদ ও সহীহ রুকিয়াসরাসরি প্রমাণিত (Tier A)

বদনজর (আইন) ও নজর লাগার সহীহ রুকিয়া

প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: 'বদনজর সত্য। তাকদীরকে যদি কোনো কিছু অতিক্রম করতে পারত, তবে তা বদনজরই হতো' (সহীহ মুসলিম ২১৮৮)। মানুষের প্রশংসনীয় অবস্থা বা সুন্দর কিছুর ওপর হিংসা বা বিস্ময় প্রকাশ পেলে বদনজর লাগতে পারে। জিবরীল (আ.) স্বয়ং রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে বদনজরের জন্য রুকিয়া করেছিলেন।

📖আমল ও তিলাওয়াতযোগ্য আয়াত/হাদীস

5 টি আয়াত / হাদীস
কুরআনকুরআন 1:1–7
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ ۝ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ۝ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ ۝ مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ ۝ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ ۝ اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ ۝ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ
উচ্চারণ (বাংলা লিপি):

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন। আর-রাহমানির রাহীম। মালিকি ইয়াওমিদ্দীন। ইয়্যাকা না'বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাস্তা'ঈন। ইহদিনাস-সিরাতাল মুস্তাকীম। সিরাতাল্লাযীনা আন'আমতা 'আলাইহিম, গাইরিল মাগদূবি 'আলাইহিম ওয়ালাদ্দোয়াল্লীন।

অনুবাদ ও অর্থ:

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা। যিনি নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু। যিনি বিচার দিনের মালিক। আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি। আমাদেরকে সরল পথ দেখাও, সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।

উৎস: মুহিউদ্দীন খান

কুরআনকুরআন 113:1–5
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ ۝ مِن شَرِّ مَا خَلَقَ ۝ وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ ۝ وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ ۝ وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ
উচ্চারণ (বাংলা লিপি):

কুল আ'উযু বিরাব্বিল ফালাক্ব। মিন শাররি মা খালাক্ব। ওয়া মিন শাররি গাসিক্বিন ইযা ওয়াক্বাব। ওয়া মিন শাররিন নাফ্ফা-সা-তি ফিল 'উক্বাফ। ওয়া মিন শাররি হাসিদিন ইযা হাসাদ।

অনুবাদ ও অর্থ:

বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি উষার প্রতিপালকের কাছে—তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট থেকে, অন্ধকার রাতের অনিষ্ট থেকে যখন তা সমাগত হয়, গ্রন্থিতে ফুঁৎকার দানকারী যাদুকারিনীদের অনিষ্ট থেকে, এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।

উৎস: মুহিউদ্দীন খান

কুরআনকুরআন 114:1–6
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ ۝ مَلِكِ النَّاسِ ۝ إِلَٰهِ النَّاسِ ۝ مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ ۝ الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ ۝ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ
উচ্চারণ (বাংলা লিপি):

কুল আ'উযু বিরাব্বিন-না-স। মালিকিন-না-স। ইলা-হিন-না-স। মিন শাররিল ওয়াসওয়াসিল খান্নাস। আল্লাযী ইউওয়াসউইসু ফী সুদূরিন-না-স। মিনাল জিন্নাতি ওয়ান-না-স।

অনুবাদ ও অর্থ:

বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি মানুষের প্রতিপালকের কাছে, মানুষের অধিপতির কাছে, মানুষের উপাস্যের কাছে—আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট থেকে, যে মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়—জিনদের মধ্য থেকে এবং মানুষের মধ্য থেকে।

উৎস: মুহিউদ্দীন খান

হাদীসSahih Muslim 2186• Sahih
بِاسْمِ اللهِ أَرْقِيكَ، مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ، مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ، اللهُ يَشْفِيكَ، بِاسْمِ اللهِ أَرْقِيكَ
উচ্চারণ (বাংলা লিপি):

বিসমিল্লাহি আরক্বীকা, মিন কুল্লি শাইয়িন ইউ'যীকা, মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আও 'আইনি হাসিদিন, আল্লাহু ইয়াশফীকা, বিসমিল্লাহি আরক্বীকা।

অনুবাদ ও অর্থ:

আল্লাহর নামে আমি আপনাকে রুকিয়া (ঝাড়ফুঁক) করছি এমন প্রত্যেক বস্তু থেকে যা আপনাকে কষ্ট দেয়, এবং প্রত্যেক প্রাণের অনিষ্ট বা হিংসুকের বদনজর থেকে। আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য দান করুন। আল্লাহর নামে আমি আপনাকে রুকিয়া করছি।

উৎস: সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

হাদীসSahih Muslim 2188• Sahih
الْعَيْنُ حَقٌّ وَلَوْ كَانَ شَيْءٌ سَابَقَ الْقَدَرَ سَبَقَتْهُ الْعَيْنُ وَإِذَا اسْتُغْسِلْتُمْ فَاغْسِلُوا
উচ্চারণ (বাংলা লিপি):

আল-'আইনু হাক্কুওঁ ওয়া লাও কানা শাইয়ুন সাবাকাল কাদারা সাবাকাতহুল 'আইনু, ওয়া ইযাস-তুগসিলতুম ফাগসিলূ।

অনুবাদ ও অর্থ:

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: 'বদনজর সত্য। তকদিরকে অতিক্রম করার মতো যদি কিছু থাকত, তবে বদনজরই তাকে অতিক্রম করত। আর যখন তোমাদের (বদনজরের চিকিৎসার জন্য) গোসল করতে বলা হয়, তখন তোমরা গোসল করে দাও।' (সহীহ মুসলিম ২১ba)

উৎস: সহীহ মুসলিম

🌿ব্যবহার ও আমলের পদ্ধতি (সুন্নাহ অনুযায়ী)

আক্রান্ত ব্যক্তির সামনে বসে সূরা আল-ফাতিহা এবং সূরা ফালাক্ব ও নাস পাঠ করুন। এরপর জিবরীল (আ.) এর পঠিত হাদীসের দুআটি ('বিসমিল্লাহি আরক্বীকা...') পাঠ করে রোগীর গায়ে হালকা ফুঁ দিন। কারো সুন্দর কিছু দেখলে সর্বদা 'মাশাআল্লাহ তাবারাকাল্লাহ' বলবেন।

⚖️

জরুরি সতর্কবার্তা ও নির্দেশনা

রুকিয়া আল্লাহর নিকট আশ্রয় ও শেফা প্রার্থনার একটি শরীয়াহসম্মত মাধ্যম; এটি ডাক্তারি চিকিৎসা বা ঔষধের বিকল্প নয়। অসুস্থতায় অবশ্যই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। কখনোই কোনো প্রকার তাবিজ ব্যবহার করবেন না এবং গণক, যাদুকর বা ভণ্ড কবিরাজের কাছে যাবেন না।

সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়সমূহ

বিভিন্ন বিপদ ও রুকিয়াসরাসরি প্রমাণিত (Tier A)

বদনজর দূরীকরণে ওযু ও গোসলের সুন্নাত পদ্ধতি

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: 'বদনজর সত্য। তাকদীরকে যদি কোনো কিছু অতিক্রম করতে পারত, তবে তা বদনজরই হতো। আর যখন তোমাদের (বদনজরের চিকিৎসার জন্য) গোসল বা ওযু করতে বলা হয়, তখন তোমরা গোসল করে দাও।' (সহীহ মুসলিম ২১৮৮)। কারো নজর লেগেছে বলে জানা গেলে, নজরদানকারী ব্যক্তিকে ওযু করিয়ে সেই পানি আক্রান্ত ব্যক্তির গায়ে ঢেলে দেওয়ার বিধান সহীহ হাদীস দ্বারা সরাসরি প্রমাণিত রুকিয়া ও শেফা।

3 টি আয়াত / হাদীসদেখুন →
বিভিন্ন বিপদ ও রুকিয়াকুরআনের সাধারণ শিফা/হেফাজত (Tier B)

হিংসা (হাসাদ) ও বিদ্বেষ থেকে সুরক্ষার কুরআনি আমল

হিংসা এমন এক মারাত্মক আত্মিক ব্যাধি যা অন্যের নেয়ামত ধ্বংসের কামনা করে। মহান আল্লাহ সূরা আল-ফালাক্বে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন হিংসুকের অনিষ্ট থেকে তাঁর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতে: 'এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে' (সূরা ফালাক্ব: ৫)। কোরআনের এই আয়াতসমূহ হিংসার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষার সাধারণ ও অত্যন্ত শক্তিশালী শিফা।

3 টি আয়াত / হাদীসদেখুন →