যাদু (সিহর) বিনষ্টের কুরআনী রুকিয়া ও প্রতিরোধ
প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য
যাদু একটি মারাত্মক কুফরি কাজ যা শয়তানের সহযোগিতায় অনিষ্টকারী ব্যক্তিরা করে থাকে। ইসলামে যাদু কাটার জন্য কোনো তান্ত্রিক, কুফরি কবিরাজ বা তথাকথিত নুশরা (যাদু দিয়ে যাদু কাটা) কঠোরভাবে হারাম। কুরআন মাজীদের আয়াত ও ৩ কুল তিলাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর রহমতে যাদুর প্রভাব সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায়।
📖আমল ও তিলাওয়াতযোগ্য আয়াত/হাদীস
3 টি আয়াত / হাদীসওয়া আওহাইনা ইলা মূসা আন আলক্বি 'আসাকা ফা-ইযা হিয়া তালক্বাফু মা ইয়া'ফিকূন। ফাওয়াক্বা'আল হাক্বকু ওয়া বাতবালা মা কানূ ইয়া'মালূন। ফাগুলিবূ হুনালিকা ওয়ানকালাবূ সাগিরীন।
আর আমি মূসার প্রতি ওহী পাঠালাম: তোমার লাঠি নিক্ষেপ করো; তৎক্ষণাৎ তা তাদের অলীক সৃষ্টিগুলোকে গ্রাস করতে লাগল। ফলে সত্য প্রতিষ্ঠিত হলো এবং তারা যা করছিল তা বাতিল ও অকার্যকর হয়ে গেল। সেখানে তারা পরাজিত হলো এবং লাঞ্ছিত হয়ে ফিরে গেল।
উৎস: মুহিউদ্দীন খান
কুল আ'উযু বিরাব্বিল ফালাক্ব। মিন শাররি মা খালাক্ব। ওয়া মিন শাররি গাসিক্বিন ইযা ওয়াক্বাব। ওয়া মিন শাররিন নাফ্ফা-সা-তি ফিল 'উক্বাফ। ওয়া মিন শাররি হাসিদিন ইযা হাসাদ।
বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি উষার প্রতিপালকের কাছে—তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট থেকে, অন্ধকার রাতের অনিষ্ট থেকে যখন তা সমাগত হয়, গ্রন্থিতে ফুঁৎকার দানকারী যাদুকারিনীদের অনিষ্ট থেকে, এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।
উৎস: মুহিউদ্দীন খান
কুল আ'উযু বিরাব্বিন-না-স। মালিকিন-না-স। ইলা-হিন-না-স। মিন শাররিল ওয়াসওয়াসিল খান্নাস। আল্লাযী ইউওয়াসউইসু ফী সুদূরিন-না-স। মিনাল জিন্নাতি ওয়ান-না-স।
বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি মানুষের প্রতিপালকের কাছে, মানুষের অধিপতির কাছে, মানুষের উপাস্যের কাছে—আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট থেকে, যে মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়—জিনদের মধ্য থেকে এবং মানুষের মধ্য থেকে।
উৎস: মুহিউদ্দীন খান
🌿ব্যবহার ও আমলের পদ্ধতি (সুন্নাহ অনুযায়ী)
১) ওজু অবস্থায় পানি বা তেলের পাত্র সামনে রেখে সূরা আল-ফাতেহা, আয়াতুল কুরসী, সূরা আল-আ'রাফের ১১৭-১১৯ আয়াত এবং ৩ কুল পাঠ করে পানিতে ফুঁ দিন। ২) সেই পানি পান করুন ও গোসল করুন। ৩) সকাল-সন্ধ্যায় সুরক্ষার মাসনূন দুআসমূহ একনিষ্ঠভাবে পাঠ করুন।
জরুরি সতর্কবার্তা ও নির্দেশনা
রুকিয়া আল্লাহর নিকট আশ্রয় ও শেফা প্রার্থনার একটি শরীয়াহসম্মত মাধ্যম; এটি ডাক্তারি চিকিৎসা বা ঔষধের বিকল্প নয়। অসুস্থতায় অবশ্যই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। কখনোই কোনো প্রকার তাবিজ ব্যবহার করবেন না এবং গণক, যাদুকর বা ভণ্ড কবিরাজের কাছে যাবেন না।
সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়সমূহ
বদনজর দূরীকরণে ওযু ও গোসলের সুন্নাত পদ্ধতি
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: 'বদনজর সত্য। তাকদীরকে যদি কোনো কিছু অতিক্রম করতে পারত, তবে তা বদনজরই হতো। আর যখন তোমাদের (বদনজরের চিকিৎসার জন্য) গোসল বা ওযু করতে বলা হয়, তখন তোমরা গোসল করে দাও।' (সহীহ মুসলিম ২১৮৮)। কারো নজর লেগেছে বলে জানা গেলে, নজরদানকারী ব্যক্তিকে ওযু করিয়ে সেই পানি আক্রান্ত ব্যক্তির গায়ে ঢেলে দেওয়ার বিধান সহীহ হাদীস দ্বারা সরাসরি প্রমাণিত রুকিয়া ও শেফা।
বদনজর (আইন) ও নজর লাগার সহীহ রুকিয়া
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: 'বদনজর সত্য। তাকদীরকে যদি কোনো কিছু অতিক্রম করতে পারত, তবে তা বদনজরই হতো' (সহীহ মুসলিম ২১৮৮)। মানুষের প্রশংসনীয় অবস্থা বা সুন্দর কিছুর ওপর হিংসা বা বিস্ময় প্রকাশ পেলে বদনজর লাগতে পারে। জিবরীল (আ.) স্বয়ং রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে বদনজরের জন্য রুকিয়া করেছিলেন।